তৃতীয় অধ্যায়।
কলকাতা, ১৯৪৩।
যুদ্ধের আঁচ, মন্বন্তরের ছাই—সময়ের দিন কালো। আরভের একমাত্র আশ্রয়—ইলোরার চিঠি। একদিন সে লেখে—
“ইলোরা, দূরত্ব আর মানতে পারি না। তোমাকে একবার দেখতে চাই। দিঘির পাড়ে বসে হাত ধরা—শুধু একবার…”
উত্তর আসতে দেরি। খাম খুলতেই ভেজা অক্ষরের দহন।
“আরভ, তোমার চাইতেও আমার চাওয়া কম নয়। কিন্তু ভাগ্য—আমার নয়। বাবার ইচ্ছে মতো পাশের গ্রামের জমিদারবাড়িতে বিয়ের কথা ঠিক হয়েছে। তিনি অসুস্থ; আমি ‘না’ বলতে পারিনি। আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। তুমি কি আমাকে নিয়ে যেতে পার?—বললাম কি অবাস্তব কথা?… হয়তো এটাই শেষ চিঠি। তবু আমার আত্মার প্রতিটি কণা তোমাকেই ভালোবাসবে।”
পৃথিবী দুলে ওঠে আরভের। সে ময়ূরপুরে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা করে। কিন্তু দেশভাগের পদধ্বনি কাছে আসে। হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা, রক্ত, ভাঙা রেললাইন, থেমে থাকা স্টিমার। ডাকবাক্সে জমে ওঠে অপঠিত খাম। সীমানা কাঁটার তারে আটকে যায় দুই প্রাণ—যারা শুধু অক্ষরের বাঁধনে এক হয়েছিল।


Leave a Reply