কন্যাদান

137 Views

বর্ষামাঝির ভাটিয়ালি শুনে শাঁখারির বড়ো কষ্ট।

মনে রঙ ধরা শুওপোকা বললে কষ্ট তো হবেই,

এতদিন ধরে বেড়ে ওঠা ঝিঙে ফুলটা ঝরে গেলে

মনের আর দোষ কি?

সরকারি বাস ঠিক তার স্টপেজে দাঁড়ায়।

তুলে নেয় কিছু প্রজাপতি, দশকর্মা দোকান থেকে বেতের সের। শোলার মুকুট।

তারপর ব্যাগ ট্যাগ গুছিয়ে বিড়াল চললো বৃন্দাবনে।

আদরের গানে নদী পথ বদলেছে।

শহর বদলেছে আলো।

টুনি বাল্ব এর আলো মেখে নিয়ে রঙিন হয়েছে ফড়িং।

এদিকে ছাতা ধরবার মানুষ নিকুঞ্জ,

শীতলা তলার দুয়ারে বসে বসে ভিনদেশী পাখির বটফল খাওয়া দেখছে।

আহা বৃষ্টি হচ্ছে বলে কি সব গুলো ঝরিয়ে ফেলবে নাকি।

নাকি জলের ফোঁটার ওইটুকু ভার নিতে পারোনা?

বট বললে, এ আমার রোজকার নিয়ম।

কেউ আদর করে, কেউ নখ বসায়।

তুমি কাকে ভালবাস? 

ওই যে। একদিন কথা দিয়ে যে কামিনীর গন্ধ অনেকদূর চলে গেছিলো আমার জ্বরের ঘোরে,

মাথায় শেষ জলপট্টি দিয়ে, তাকে আমি খুব ভালোবাসি।

তবে ধরে রাখলে না কেনো? 

ওই যে তুমি বললে, বাসে করে চলে গেছে বুকে জমে থাকা উইমাটির ঢিপি। তাদের জায়গা ছেড়ে।

সেদিন একটু নুন বেশি হলেও খেয়ে নিয়েছিলাম সহ্য করে।

বাকি সুখ দুঃখ সবই তো থাকলো শাঁখার গায়ের মাটিকনায়।

নিকুঞ্জ তার ছাতাটা একলাই মাথায় ধরে, শিশির ভেজা মেঠো পথ দিয়ে ঘরে ফিরে এলো।

অমিত কুমার গোস্বামী

কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *